সহবাসের পর গোসল না করে মুখস্থ কুরআন তেলাওয়াত করা বা শোনা যাবে কি না?
পবিত্রতা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। অনেক ইবাদতের জন্যই পবিত্রতা অপরিহার্য। পাঠকদের মধ্য থেকে একজন জানতে চেয়েছেন, যদি কারো ওপর গোসল ফরজ হয়, তাহলে সেই অবস্থায় মুখস্থ কুরআন তেলাওয়াত করা অথবা অন্যের তেলাওয়াত শোনার বিধান কী? নিচে এ বিষয়ে হাদিসের আলোকে আলোচনা করা হলো।
উত্তর
না, সহবাসের পর ফরজ গোসল আদায়ের পূর্বে কুরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ নেই, তবে তেলাওয়াত শোনা জায়েজ আছে।
দলিল
এই বিষয়ে দুটি ভিন্ন বিধান রয়েছে:
১. কুরআন তেলাওয়াত করা: গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত করা নিষেধ। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
لَا تَقْرَأِ الحَائِضُ وَلَا الجُنُبُ مِنَ القُرْآنِ شَيْئًا
(তরজমা) “ঋতুবতী নারী ও জুনুব ব্যক্তি (যার ওপর গোসল ফরজ) কুরআনের কিছুই পাঠ করবে না।”
(তথ্যসূত্র: তিরমিযি, হাদিস ১৩১; ইবনে মাজাহ, হাদিস ৫৯৫)
২. কুরআন তেলাওয়াত শোনা: গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত শোনাতে কোনো বাধা নেই। এটি জায়েজ। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে, আয়েশা (রা.) বলেন,
كان النبي ﷺ يَتَّكِئُ فِي حَجْرِي وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ
(তরজমা) “নবী (ﷺ) আমার কোলে হেলান দিয়ে কুরআন তেলাওয়াত করতেন, অথচ তখন আমি ঋতুস্রাব অবস্থায় ছিলাম।”
(তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ২৯৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩০১)
এই হাদিস থেকে উলামায়ে কেরাম বলেন, ঋতুবতী বা যার ওপর গোসল ফরজ, এমন ব্যক্তির জন্য কুরআন তেলাওয়াত শোনা বৈধ।